Ittipsrangpur

ভালোবেসে বিয়ে করে ভুল করেছি!



রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে(বেরোবি) ২০১২-২০১৩ শিক্ষাবর্ষে লোকপ্রশাসন বিভাগে প্রথম ব্যাচে ভর্তি হন নাহিদ নিগার মেঘনা। রঙ্গিন স্বপ্নেবিভোর এই মেধাবী মুখটি অান্তঃবিভাগ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় পান একাধিক পুরষ্কার। মাতিয়ে রাখেন সহপাঠীদের গল্প-আড্ডায়। কিন্তু কিছুদিনের মাথায় এসব কিছু যেন স্মৃতি হয়ে গেছে। থেমে গেছে তার সেই উচ্ছল দিনগুলি।

হঠাৎ ছন্দপতন ঘটিয়ে সবার অজান্তেই করে বিয়ে করেন মেঘনা। আর সেই বিয়ের যৌতুকই হয়েছে তার জীবনের কাল। যৌতুকের টাকা না পেয়ে স্বামী তার হাত-পা ভেঙে দিয়েছে। এ নিয়ে তার পরিবার মামলা করায় আজ তিনি হাসপাতালের বেডে শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন।

 নাহিদ নিগার মেঘনা জানালেন, ‘আমাকে একদিন দেখতে না পারলে সে পাগলের মতো হয়ে যেত। সে আমাকে খুবই ভালোবাসতো। যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় শেষ পর্যন্ত সে আমাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে পা ভেঙে দিয়েছে। আজ নিজের জীবনের কোনো মায়া নেই। ভালোবেসে বিয়ে করে ভুল করেছি। যৌতুকের কাছে ভালবাসা আজ পরাজিত।’
রোববার সকালে গিয়ে দেখা যায়, ৫ দিন ধরে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স স্বামীর নির্মম নির্যাতনে শিকার হয়ে পা ভাঙ্গা অবস্থায় দ্বিতীয় তলায় ১৪ নং বেডে শুয়ে কাঁতরাচ্ছে মেঘনা

 পরিবার সুত্রে জানাগেছে, কলেজ জীবন থেকে দু জনের মধ্যে প্রেম, এ ভাবে কাটে তিন বছর। এক সময় একই উপজেলার উত্তর পারুলিয়া গ্রামের নুরল ইসলামের ছেলে রেজাউল আলম সুজন বিয়ে করার জন্য পাগল হয়ে উঠে। বিয়েতে রাজি না হলে সে আত্নহত্যা করবে বলে চাপ দেয়।

সবার অজান্তে ২০১৩ সালে জানুয়ারিতে ৫ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে রংপুর নোটারী পাবলিক ক্লাবে গিয়ে বিয়ে করে। একই বছরের শেষের দিকে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের আওতায় হাতীবান্ধা পাটিকাপাড়া ইউনিয়নে পরিদর্শকের সরকারি চাকরি পায় রেজাউল আলম সুজন। চাকরির পর রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেঘলাকে নিজ বাড়িতে নিয়ে আসে সুজন। পরে পরিবারের চাপে প্রথম বিয়েটা ডিভোর্স করিয়ে নতুন করে ২ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে নতুন করে বিয়ে পড়ানো হয় তাদের। বিয়ের ৫ দিন না যেতেই শুরু হয় নির্মম নির্যাতন। নির্যাতনে পাশাপাশি তার স্ত্রী নাহিদ নিগার মেঘনাকে তার বাবার কাছ থেকে যৌতুকের জন্য একটি পালসার মোটরসাইকেল ও ১০ লাখ টাকা আনার জন্য চাপ দিতে থাকে। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার সকালে সুজন ও মেঘনার মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সুজন লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে ডান পা ভেঙ্গে দেয়। পরে মেঘনাকে পরিবারের লোকজন মঙ্গলবার বিকালে উদ্ধার করে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করিয়ে দেন।
চিকিৎসাধীন মেঘনার মা আফরোজা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, সুজন আমার মেয়ের ভবিষ্যত নষ্ট করে দিয়েছে। এখন যৌতুকের টাকা না পেয়ে নির্যাতন করে মেরে ফেলতে চাইছে।
মেঘনার স্বামী রেজাউল আলম সুজন জানান, আমি তাকে মারধর করিনি আগে থেকে তার পা ভাঙ্গা ছিল। বিষয়টির সমাধান চলছে। যৌতুক চাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন রেজাউল আলম সুজন।
এদিকে ঝরে-পড়া এই সহপাঠীকে ফিরে পেতে ব্যাকুল বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগ। তারা চায় এই অমানবিক নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার হোক, সেই সাথে সদা হাস্যজ্জল মুখটি ফিরে আসুক তাদের ক্যাম্পাস আড্ডায়।

এ ব্যাপারে কথা বললে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রতিনিধি রিতু কুণ্ডু লেখাপড়া২৪.কমকে বলেন, হঠাৎ করেই ক্লাসে অনুপস্থিতি দেখে তার সহপাঠীদের সাথে কথা বলি। তারা জানান, সে বিয়ে করেছে। বিষয়টি ব্যক্তিগতভাবে আমাকে কষ্ট দিয়েছে। কিভাবে একজন শিক্ষার্থীর নিশ্চিত ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন পর সে যোগাযোগ করছিল। যদি সে ফিরে আসতে চায়, তবে উপাচার্যের  সাথে কথা বলে তাকে আবার ভর্তি করানো যেতে পারে।
 হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. রমজান আলী জানিয়েছেন, মেঘনার তার ডান পায়ের হাড়ে ফাঁটল দেখা যাওয়া তা প্লাস্টার করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

হাতীবান্ধা থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) জাকির হোসেন বলেন, নির্যাতিত মেঘনার স্বামী সুজনসহ ৫ জনকে আসামি করে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
ভালোবেসে বিয়ে করে ভুল করেছি! ভালোবেসে বিয়ে করে ভুল করেছি! Reviewed by Unknown on 9:20:00 PM Rating: 5

No comments: