Ittipsrangpur

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই বদলাবে বাংলাদেশের ভাগ্য: ড. হারুন-অর-রশিদ


বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ। বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এই অধ্যাপক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স এবং মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান লাভ করেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রভোস্ট, তিন বার নির্বাচিত ডিন, শিক্ষক সমিতি, এশিয়াটিক সোসাইটিসহ বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার নানা গুরুত্বপূর্ণ পদ অলঙ্কৃত করেন। ২০০৭ সালে সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে ১১ দিন অজ্ঞাত স্থানে রিমান্ড শেষে পাঁচ মাস কারাভোগও করেন।

৩৬ বছর ধরে শিক্ষকতায় থাকা ড. হারুন-অর-রশিদ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ওপর লন্ডন থেকে পিএইচডি এবং পোস্ট-ডক্টরাল করেন। স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধু, ওয়ান ইলেভেনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তিনি আটটি বই লিখেছেন। এছাড়াও সম্পাদিত গবেষণা কর্ম ৫টি, ভাষা-আন্দোলন বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদিত গ্রন্থ ৫টি, দেশ ও বিদেশের পত্রিকায় অর্ধশতাধিক প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।

তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থার এক ‘বৈপ্লববিক’ পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। কমছে সেশনজট সমস্যা। ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপরেখা বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক বিষয় নিয়ে প্রিয়.কম-এর সাথে একান্ত কথা বলেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ।

মুক্ত হওয়ার পথে সেশনজট
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের দেশের বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ২১ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশুনা করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ২ হাজার ২শ’ কলেজ অধিভূক্ত রয়েছে। ২০১৩ সালের ৬ মার্চ আমি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ লাভের পর দেখলাম, এটা একটা মহা সমুদ্রের মতো। এর কোনো কূল-কিনারা নেই। দেখলাম, এত বড় একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে গাজীপুর ক্যাম্পাস থেকে মান্ধাতা আমলের পদ্ধতি অনুসরণ করে এটা চালানো হচ্ছে।

গাজীপুর ক্যাম্পাস থেকে গতানুগতিক পদ্ধতিতে পোস্ট অফিসের মাধ্যমে উত্তরপত্র এবং অন্যান্য একাডেমিক সামগ্রী আদান-প্রদান হচ্ছে। ফলে দুর্বিষহ সেশনজটে পড়ছে শিক্ষার্থীরা। আমি প্রথমেই সেশনজটকে এক নম্বর চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করলাম।

এই সমস্যা দূর করতে কতগুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে একটি কেন্দ্রীভূত প্রশাসনকে বিকেন্দ্রীকরণ। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে যে ছয়টা রিজওন্যাল (আঞ্চলিক) সেন্টার (সিলেট, রংপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা) আছে; এগুলো বাংলাদেশের প্রশাসনিক বিভাগীয় শহরে। সেই রিজওন্যাল সেন্টারগুলো আমরা চালু করলাম। সেখানে জনশক্তি দিলাম। কতগুলো লজিস্টিক দিলাম, যেমন কম্পিউটার, ইন্টারনেটসহ যেগুলো আছে। প্রত্যেকটা রিজওন্যাল সেন্টারে একজন পরিচালক রয়েছে, যারা প্রত্যেকে একজন প্রফেসরের পদমর্যদার। এভাবে এটাকে সাজালাম।

এখন আমাদের অনেক কাজ কিন্তু রিজওন্যাল সেন্টারের মাধ্যমে হয়। কোনো শিক্ষক বা পরীক্ষককে আর গাজীপুর আসতে হয় না। তারা স্ব-স্ব রিজওন্যাল সেন্টারে যোগাযোগ করে সেখান থেকেই একাডেমিক ম্যাটেরিয়াল অর্থাৎ পরীক্ষা সংক্রান্ত সবকিছু পেয়ে যায়। ওখান থেকে তারা সব কিছু গ্রহণ করে। এগুলো এক বা দুদিনের ম্যধ্যে ডিসট্রিবিউট হয়ে যায়।
র পর আরেকটা পদক্ষেপ হলো- নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষা এবং তাদের সেশনজট। এই নতুন শিক্ষার্থীরা যেন সেশনজটে না পড়ে সেটা নিশ্চিতে আরও একটি একটি পদক্ষেপ হাতে নিলাম। আমাদের সিদ্ধান্তনুযায়ী তিন মাসের মধ্যেই রেজাল্ট (ফলাফল) দিতে হবে। পরীক্ষা হওয়ার তিন মাসের মধ্যেই রেজাল্টের ব্যবস্থা করলাম।

সাফল্যের অন্তরালে ক্রাশ প্রেগাম

আমি দায়িত্বভার গ্রহণ করেছি ২০১৩ সালে। আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে যারা ভর্তি হয়েছে, তাদের জন্য কোনো সেশনজট থাকবে না। কিন্তু আমার যোগদানের আগে যারা এখানকার শিক্ষার্থী, যারা সেকেন্ড ইয়ারে, থার্ড, ইয়ারে কিংবা ফোর্থ ইয়ারে পড়ে তাদের তো অনেক সেশনজট রয়েছে। এটাকে কমাতে পদক্ষেপ গ্রহণ করি। যাকে আমরা ক্রাশ প্রোগ্রাম বলছি। সেশনজট দূরীকরণে ক্রাশ প্রোগ্রাম একটা একাডেমিক প্রোগ্রাম। এর মাধ্যেমে সেশনজটকে ক্রাশ করতে হবে। এভাবে আমাকে উত্তরণ ঘটাতে হবে।

এই ক্রাশ প্রোগ্রাম গ্রহণের জন্য আমাকে গবেষণা করতে হয়েছে। মিনিমাম আট থেকে নয় মাস গবেষণা করেছি। কতগুলো পরীক্ষা এখানে এসে জট বাঁধছে, রেলওয়ে জংশনের মতো। এগুলোর যেমন আলাদা লাইন আছে তেমনই পরীক্ষাগুলো আলাদা আলাদা। সেগুলো বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

এই ক্রাশ প্রোগ্রামের কারণে পরীক্ষা রেগুলার হচ্ছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা-শিক্ষকরা জানেন কোনটা কীভাবে হবে। আমরা ২০১৫ সালে ক্রাশ প্রোগ্রাম গ্রহণ করেছি। গত বছর চলে গেছে। চলতি বছর যাচ্ছে। আমরা ঘোষণা করেছি, ২০১৮ সালের মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পূর্ণ সেশনজটমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় করব। নতুন যারা ভর্তি হবে তাদের কোনো সেশনজট থাকবে না। সেভাবে আমরা ক্রাশ প্রোগ্রামকে সামনে রেখে সামনে অগ্রসর হচ্ছি।

পরীক্ষার সময়ে পরিবর্তন

পরীক্ষার সময়কাল কমানো হয়েছে। ফরম ফিলাপের জন্য দেওয়া হতো দেড়-দুমাস, তা কমানো হয়েছে। আগে বছরে ক্লাশ যত দিন হতো সেটাকে কমিয়ে এনেছি। ক্লাশের সময় ৪৫ মিনিট থেকে বাড়িয়ে এক ঘণ্টা করেছি। সকালে ক্লাশ আর বিকালে পরীক্ষার নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যাতে পরীক্ষার কারণে ক্লাশ বিঘ্নিত না হয়। এই পদক্ষেপ নেওয়ার পরে তিন মাসের মধ্যে রেজাল্ট হচ্ছে।

সেশনজট নিরসণে আরও একটি কাজ করেছি, সেটা হলো- একজন পরীক্ষক এক সাথে একাধিক পরীক্ষার পরীক্ষক হতে পারবেন না। যেমন একজন শিক্ষক যদি একাধারে ফার্স্ট ইয়ার, সেকেন্ড ইয়ার, থার্ড ইয়ারের পরীক্ষক হন, তাহলে একটা দেখবেন আর অন্যগুলো পড়ে থাকবে। সেটা হবে না। এই বিষয়গুলো তো ম্যানুয়ালি করা কঠিন। তাই এই কাজগুলো আমরা করেছি সফটওয়্যার ডেভেলপ (উন্নয়ন) করে। এখন আমরা সফটওয়্যারের মাধ্যেমে বুঝতে পারি, কোন শিক্ষককে কত খাতা দেওয়া হয়েছে। কোন তারিখে দেওয়া হয়েছে। কখন গ্রহণ করা হয়েছে ইত্যাদি।

তবে এখানে নানা চ্যালেঞ্জ বা প্রতিবন্ধকতা আছে। রাজনৈতিক অস্থিরতা যদি বলি, সেগুলো তো আছেই। তারপরও সেগুলোকে আমরা ওভারকাম করার চেষ্টা করেছি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি বিশ্ববিদ্যালয়, যার ক্যাম্পাস হলো সম্পূর্ণ বাংলাদেশ। একটা রাজনৈতিক অস্থিরতা হলে আর কোথাও নড়াচড়া করা যায় না। অন্য একটি ক্যাম্পাস ভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় পারে, কিন্ত আমরা পারি না। তারপরও বলা যেতে পারে যে দুঃসাহস এবং ঝুঁকি নিয়ে আমরা এই কাজটি করেছি।

ভর্তি পরীক্ষায় পিছিয়ে থাকবে না

বরাবরই সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা হতো। কিন্তু সব বিশ্ববিদ্যাললেয় পরীক্ষার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বসে থাকবে না। মূলত পরীক্ষা দেরিতে হওয়ার কারণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নয় মাস পিছিয়ে যায়।

ই-ফাইলিং
বাংলাদেশে ৩৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আছে। এর মধ্যে একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় হলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে আমরা ই-ফাইলিং শুরু করেছি। প্রকৃতপক্ষে গভর্নমেন্ট কেবল ই-ফাইলিংয়ের কথা চিন্তা করছে। বিপরীতে আমরা কিন্তু ই-ফাইলিং চালু করেছি। ডিজিটাল উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি উদাহরণ হিসেবে থাকবে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ‘অন স্টপ’ সার্ভিস সেন্টার করেছি। একজন সেবাগ্রহণকারী এখানে ঢুকবে। পাঁচটা কম্পিউটার পাশে দেওয়া আছে। ব্যাংকের একটি শাখার মতো বসানো হয়েছে। এখানে তারা টাকা জমা দিবে। ইলেক্ট্রনিক মেশিন থেকে কুপন নিয়ে ঢুকে টাকা জমা দিয়ে বের হয়ে যাবে। একটা নির্ধারিত তারিখে এসে সে তার সার্টিফিকেট হোক, ট্রান্সক্রিপ্ট হোক পেয়ে যাবে। এটাকে আমরা অন স্টপ সার্ভিস বলছি।

শিক্ষক প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা

আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৩টার মতো ডিসিপ্লিন বা বিষয় আছে। ৪ সপ্তাহ করে ট্রেনিং ডিইরেশন অনুযায়ী পরিকল্পনা করে ছুটির দিন বাদে ১১ মাসে ৩৩টা ডিসিপ্লিনের বছরে প্রায় ১২শ’ শিক্ষককে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগে যেখানে ছিল ২৫০ থেকে ৩০০, এখন সেটা হলো ১২০০। বিরতি ছাড়াই চলছে এই ট্রেনিং। রিসোর্স পারসনরা শিক্ষকদের ক্লাশ নেন। গাজীপুরে আমাদের ডরমেটরি আছে সেখানে শিক্ষকরা থাকেন। প্রশিক্ষণ নেন।

আর আমি প্রত্যেক ডিসিপ্লিনের শিক্ষকদের সামনে দুইটা করে ক্লাশ নিই। একেকটা গ্রুপের সাথে দুইটা। সেটা হলো ‘স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাস’র উপরে। এটা আমরা সব শিক্ষার্থীর জন্যও বাধ্যতামূলক করেছি।

আরেকটা বিষয় হলো- আমরা যে রিজওন্যাল সেন্টারগুলো গতে তুলেছি। এখন সেগুলো আছে ভাড়া করা বাড়ি। আমরা পাঁচ একর করে ৬ রিজওন্যাল সেন্টারের জন্য নিজস্ব জমি কিনেছি। ৪৮৪ কোটি টাকার একটি প্রজেক্ট। প্রতিটি সেন্টারে দুইটা করে ১০ তলা ভবন থাকবে।

আমরা কলেজের শিক্ষার উন্নয়নে কলেজ এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (সিইডিপি) চালু করতে যাচ্ছি। এখানে বিশ্ব ব্যাংক দিবে ১০০ মিলিয়র ডলার। বাংলাদেশ সরকার দিবে ৩০ মিলিয়ন ডলার। এই প্রকল্পের মাধ্যেমে ৮ হাজার শিক্ষককে ট্রেনিং দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৫ থেকে ৭শ’র মতো শিক্ষকের ট্রেনিং হবে দেশের বাইরে। যারা হবেন মাস্টার ট্রেইনার। আর অন্যান্য হবে আট হাজার। এদের ট্রেনিং হবে স্পেশাল ট্রেনিং।

কনটেন্ট ডেভেলপ

এখন একটি বিষয় আমরা নজরে নিয়ে আসছি। সেটা হলো শিক্ষকরা ‘কনটেন্ট ডেভেলপ’ করবে। তারপর একটা সফটওয়্যার হবে। এটা ডিভাইসের মাধ্যমে। যেমন একজন শিক্ষার্থীর কাছে একটি মোবাইল ফোন থাকবে। সেটা দিয়ে সে শিক্ষকের ডেভেলপ করা কনটেন্ট ফলো করতে পারবে।

ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক

এর বাইরে আরও একটি বিষয় আছে। সেটা যদি আমরা করতে পারি তাহলে বাংলাদেশের শিক্ষার ক্ষেত্রে একটা বড় ধরনের ‘রেভুলেশন’ ঘটবে। সেটা হলো- ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক। এটি এমন একটি বিষয়- সব কলেজকে একটি নেটওয়ার্কের মধ্যে নিয়ে আসবে ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে। আজকে গাজীপুরের কোনো একটা ক্লাশরুমে কোনো একটা লেকচার দিয়েছি। সেটা মহেশখালীতে বসে শিক্ষক বা শিক্ষার্থীরা তা দেখতে বা শুনতে পারবেন। এটা আমাদের জাতীর জন্য হবে একটি বৈপ্লবিক কর্মকাণ্ড।

পাইলট প্রজেক্ট কল স্টোনার
কল সেন্টারটা হলো একটা বিজনেস ফান্ড। তাদের কাছ থেকে আমরা সেবাটা নিচ্ছি। প্রথমে ছয় মাসের জন্য নিয়েছিলাম। পাঁচটি টেলিফোন আমাদের জন্য বরাদ্দ আছে। এটা হলো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা সেবা গ্রহণ করতে চায় তাদের জন্য। অনেক সময় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের টেলিফোন করে তথ্য পান না। তখন আমরা বলি আমাদের কল সেন্টার আছে সেখানে ফোন করলে আমাদের পক্ষে তারা সেবা প্রদান করবে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ধ্যার পরে ওখানে আনসার আছে ওরা ওখানে থাকে। তবে এটা অন্ধার ভূতের বাড়ির মতো। সন্ধ্যার পরে অন্ধকার থাকে যেকোনো অঘটন ঘটতেই পারে। আমরা অলরেডি ইলেক্ট্রনিক সিকিউরিটি সিস্টেম পরীক্ষা সম্পর্কিত কাজের জায়গায় করে ফেলেছি। উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সিসি ক্যামেরা যেটা সেন্ট্রালি আমরা বসাচ্ছি।

আমরা আইটি বেজ সেজন্য সাইবার ক্রাইম যেটা হয়, প্রযুক্তি যেমন আছে তেমনই এর সমস্যাও আছে। এগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিদ্র করতে হবে। আমাদের যে ডাটা আছে আমরা আরেকটি ডাটা রিকভারি সেন্টারের চেষ্টা করছি। কোনো কারণে একটি ক্রাশ করলে ব্যাকআপ কাজে লাগে যেন।

দেশের উন্নয়নে অংশীদার হবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

আমাদের আধুনিক যুগের তথ্য প্রযুক্তি আছে। তথ্য প্রযুক্তি তো মানুষের কল্যাণের জন্য, মঙ্গলের জন্য। সেটা ব্যবহার করেই আমরা অনেক সমস্যার সমাধান করতে পারি। সমৃদ্ধ এক জাতি উপহার দিতে পারি।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে অল মোস্ট আইটি (প্রযুক্তি) বেজড (নির্ভর) একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করেছি। এখানে কাজ করতে মানুষের যে কষ্ট কিংবা সময় নষ্ট হতো, যে অর্থ নষ্ট হতো, এগুলো সব সাশ্রয় হয়েছে। কোনো ছেলে-মেয়েকে এখন আর প্রবেশপত্র-নিবন্ধন নেওয়ার জন্য গাজীপুর আসতে হয় না। অনলাইনে মাধ্যমে পাওয়া যায়। আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স শুধু অনলাইনের আওতায় ছিল, এখন সব অনলাইনে হচ্ছে।

কোনো শিক্ষককে সম্মানীর জন্য এখন আর গাজীপুর আসতে হয় না। ‘সোনালী সেবা’র মাধ্যমে তিনি এখন তার সম্মানী পেয়ে যান। প্রযুক্তি ব্যবহার করেই কিন্তু এই সাফল্যগুলো আমরা পেয়েছি। আরেকটা বিষয় বাংলাদেশে প্রায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ। আজকে কিন্তু বাংলাদেশ ডিজিটাইলাজেশনের দিকে যাচ্ছে। সেটা সরকারি প্রশাসক থেকে শুরু করপোরেট প্রতিষ্ঠান পর্যন্ত। ইভেন ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (ভূমি ব্যবস্থাপনা) সিস্টেমও এগিয়ে যাচ্ছে। এটা কেন হচ্ছে, কারণ হলো তথ্য প্রযুক্তির যুগ। তার মানে, তথ্য প্রযুক্তি যদি আমাকে গতিশীল করে তাহলে অবশ্যই সেটা আমি গ্রহণ করব। আগে যেকাজ করতে সময় লাগতো এক মাস, এখন সেটা লাগে একদিন। আবার অনেক ক্ষেত্রে একদিনও লাগে না।

উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে দেশের ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী লেখাপড়া করে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই ৭০ মতাংশ শিক্ষার্থীকে আধুনিক ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান দিতে পারি, তাহলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া সম্ভব। যে তথ্য প্রযুক্তির মধ্য দিয়ে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাচ্ছে সরকার, এর মধ্যে আমাদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়েরই ৭০ শতাংশ গ্রাজুয়েট। তারা যদি অগ্রসর হয়। তথ্য প্রযুক্তিতে পারদর্শী হয়। তাহলে সেটা বাংলাদেশের উন্নয়নে কিংবা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ইমপ্যাক্ট রাখবে।

ঠিক এই কারণেই আমি বলি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠান; যার মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন আনা সম্ভব। আর এই পরিবর্তন আসলে জাতীয় পর্যায়ে সেই পরিবর্তনের প্রভাব পড়বে। বাংলাদেশের ভাগ্য বা চেহারা পাল্টে দিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরাট ভূমিকা রয়েছে। এবং সেই কাজটা করার লক্ষ্য নিয়েই আমরা এই পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করছি।

নতুন সাবজেক্ট, শিক্ষা হবে উন্নয়নের দর্শন
আমার মনে হয়, আমরা যদি সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করতে পারি, বহু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমাদের সাথে আছে। অ্যাপারেল মার্চেন্ডডাইজিং, ফ্যাশন ডিজাইনিং বিভাগ রয়েছে। এবার তিনটি কলেজে পরীক্ষামূলকভাবে ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজম্যান্ট অনার্স চালু করেছি।

তারপর আমাদের সংস্কৃতির কথা যদি বলি। আমাদের সরকারি মিউজিক কলেজ বলি, যেখানে চার বছরের অনার্স চালু করতে যাচ্ছি। বিষয়টি এর আগে এখানে ছিল না। এরপর ড্রামা ও থিয়েটার আমাদের রামেন্দ্র মজুমদার পাঠশালা আছে। সেখানে আমরা একটা ডিপ্লোমা কোর্স চালু করেছি। এক বছর মেয়াদী।

এরকম কিন্তু আমাদের ৩৭২টির মতো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান আছে। বিকেএসপি, ফ্যাশন ডিজাইন, এলএলবি, টিটিসি, সঙ্গীত, নাট্যকলা আছে; এগুলো আমাদের সঙ্গে রয়েছে। জাতীয় বিশ্বাবিদ্যালয় শুধু সাধারণ শিক্ষাই দিয়ে থাকে না। এর সাথে বিশেষায়িত শিক্ষাও প্রদান করে থাকে। যেটা এত বেশি ফোকাস হয় না। বেশি আলোচনায় আসে না।

মানের ভিত্তিতে কলেজ র‌্যাংকিং
আমাদের যে কলেজগুলো আছে গাজীপুরসহ সাতটি অঞ্চলে ভাগ করেছি। সরকারি-বেসরকারি এবং সহশিক্ষা। এরমধ্যে থেকে দশটি কলেজ আমরা বেছে নিব। ২২০০ কলেজ যদি অধিভুক্ত হয়ে থাকে, সেখান থেকে আসবে ৭০টি। আর আমরা একটি কেপিআই (কী পারফমেন্স ইন্ডিকেটরস) চালু করেছি। এখানে আমরা ত্রিশটি বিষয় (আইটিম, প্রশ্নপত্রের মতো) যোগ করেছি। এখানে থাকবে- পরীক্ষা, ক্লাস, কয়টি ভবন আছে, মেয়েদের কমন রুম আছে কিনা, মেয়েদের স্যানিটেশন ব্যবস্থা কি রকম, হোস্টেল খেলা-ধুলার ব্যবস্থা কেমন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয় কিনা, এভাবে আমরা ত্রিশটি প্রশ্ন প্রস্তুত করেছি। আমরা একটি সফটওয়ার প্রস্তুত করে থ্রো করে দিয়েছি। আর শুরুতে প্রায় চারশ’ কলেজ এতে অংশ নিয়েছে। এখন আমরা একটা বিশেষজ্ঞ কমিটিদের কাছে বিষয়টি দিয়েছি। তারা কাজ করছে। প্রায় শেষের পথে। এখন আমরা একটি বৈঠকের মধ্য দিয়েই ৭০টি কলেজ বাছাই করতে পারব। এরপর আমরা তালিকা প্রকাশ করব। তারপর জাতীয় পর্যায়ে একটি অনুষ্ঠান করে তাদেরকে পুরস্কৃত করব।
এটা আমরা করেছি এজন্য বিশ্ববিদ্যালগুলোর পজিশন আছে, কে আগে, কে পরে, আমরা যদি কলেজগুলোকে র‌্যাংকিং করি, কলেজগুলোর মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। আর আমরা ভাল কলেজগুলোর দিকে মনোযোগও দিতে পারব।

কলেজ লাইব্রেরি
আমরা একটি পরিকল্পনা করছি কতগুলো বেসিক বই সব কলেজে একটা উপায়ে যাবে। আর কিছু বই দিব বিষয় ভিত্তিক। আরেকটা বিষয় আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে টেক্স বই লেখানোর। কারণ ছেলেমেয়েরা বাংলাবাজার ভিত্তিক নোট বই পড়েন। আমরা ওপেন কল দিব। এই আমাদের সিলেবাস, এ বিষয়ে লিখেতে হবে। আমাদের কাছে পান্ডুলিপি জমা দিবে। এরপর আমরা তাকে একটি সম্মানী দিব। এরপর বইটি আমরা ছেপে সব কলেজগুলোতে পাঠিয়ে দিব।
মাইল ফলক অর্জনে সমাবর্তন

আনফরচুনেটলি বিগতে ২৩ বছরে একবারও সমাবর্তন হয় নাই। একবার একটা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তা আর বেশি দূর এগোয়নি। কিন্তু আমরা অনুভব করলাম একটা বিশ্ববিদ্যালয় একজন ব্যক্তির মতো। একজন সুস্থ ব্যক্তি হলো তার শরীরের সকল অঙ্গ-পতঙ্গ সুস্থ সবল থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে যদি পূর্ণাঙ্গ একটা বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দিতে হয়, তাকে সর্বাঙ্গে সাবলম্বী এবং সুন্দর হতে হবে। খেলাধুলা আছে সিনেট হয় না। সিনেট হয় কনভোকেশন হয় না। এটা হলে তো পূর্ণাঙ্গতা পায় না।

আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়মিত সিনেট অধিবেশন হতো না, এখন বছরে দুটো সিনেট অধিবেশন চালু করলাম। একটা সিনেট অধিবেশন করার পরে আরেকটা করি। পরেরটা আমরা করি শুধুমাত্র শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য।

আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি। বঙ্গবন্ধু আন্তজার্তিক সম্মেলন কেন্দ্র আমরা ইতোমধ্যেই বুকিং করেছি ৩০ নভেম্বর ২০১৬। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম কনভোকেশন। যদি দেখা যায় গ্রাজুয়েটরা দ্বিগুণ সংখ্যায় রেজিস্ট্রেশন করেছে, স্থান সংকুলান হয় না তখন পরবর্তী ভেন্যু আর্মি স্টেডিয়াম। এতেও যদি না হয়। বিভাগীয় সে সাতটি হেডকোয়ার্টার রয়েছে সেখানে করব। এমন হলে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভিডিও কনফারেন্স করে একসাথে সিনক্রোনাইজ করে করব। এটা নতুনত্ব পাবে অভিনত্ব হবে। এটা প্রমাণ করবে দিস ইজ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় টাওয়ার

এই যে আমরা আজ যেখানে বসে কথা বলছি, পাঁচতলা ভবনটি (ধানমন্ডি ৮/এ) এক বিঘা জমির উপরে। এটা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি। এরপর শেরে-বাংলা নগরে যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) রয়েছে সেখানে একটি পুকুর রয়েছে। সেটি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সম্পত্তি। ৩৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি টাওয়ার হবে এক লক্ষ স্কয়ার ফিটের। আরেকটি হবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক লক্ষ স্কয়ার ফিটের যেটি হবে ২৪ তলা। এটার মধ্যে একাডেমিকসহ অন্যান্য কাজ করব এবং আমাদের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে।

অভিজ্ঞতা কথা বলে
মানুষের অভিজ্ঞতা কাজে লাগে। অভিজ্ঞতার তো কোনো বিকল্প নাই। একজন অভিজ্ঞ আর অনভিজ্ঞের মধ্যে পার্থক্য হবে না? কাজেই আমি শ্রেণিকক্ষে একজন শিক্ষক। এর পাশাপাশি বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছি। হলের প্রভোস্ট ছিলাম। একটা ফ্যাকাল্টির তিন তিনবার ডিন ছিলাম। তারপর প্রো-ভিসি ছিলাম। পাশাপাশি গবেষণা কার্যের জন্য এশিয়াটিক সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। আমি শিক্ষক সমিতিতে ছিলাম। এ সকল অভিজ্ঞতা তো কাজে লাগেই। আর সাথে কতগুলো মানুষের মধ্যে ‘ইনহেয়ারিট কোয়ালিটি’ থাকে যেটা বলা যেতে পারে জন্মগত। আমি যেটা হলো-সংগঠক বলতে যা বোঝায়, সাংগঠনিক ক্ষমতা তো সবার মধ্যে থাকে না।

আরেকটা বিষয়- অভিজ্ঞতার সাথে যেটা দরকার, দায়িত্বে যিনি থাকেন তার একাগ্রতা। যদি এমন হয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব আমার চার বছরের, এখন শুধু আমি দিন গুনি তাহলে তো হবে না। যেমন আমি এখনও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাশ নিই। এবং সবার আগেই আমি সেখানে গিয়ে উপস্থিত হই। বিগত তিন বছর প্রত্যেকদিন ক্লাশ করেছি। এর অর্থ হলো- আমি যখন যে দায়িত্বে থাকি, তখন মনে করি এটি আমার নিজের দায়িত্ব। পরিবারের দায়িত্ব যত বেশি গুরুত্ব দেই। তার থেকে বেশি গুরুত্ব দেই এ দায়িত্বকে।

আর একটা বিষয় হলো- আমার উন্নয়ন ভাবনা রয়েছে। আমি যেখানেই যাই কিছু যুক্ত করি। আমি বিশ্বাস করি উন্নয়ন সম্ভব। এবং সবার অবস্থান থেকে কাজ করাকে উন্নয়ন বলে। আমার কথা হল যে যেখানে বসে সেখানে উন্নয়ন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘মাস্টারপ্লান’ নাই কিন্তু এখন করতেছে। আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০ বছরের অগ্রগতির একটি পরিকল্পনা করেছি। সেই মাস্টারপ্লান অনুযায়ী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রযুক্তি নির্ভর একটি বিশ্ববিদ্যালয় হবে।

হতাশা নেই, শিক্ষার্থীরা এখন আশাবাদী

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা তা বাস্তব কারণেই ছিল। দুর্বিষহ সেশনজট, শিক্ষার মান, এগিয়ে যাওয়ার একটা অনিশ্চয়তা। তবে হতাশার অবস্থাটা কিন্তু কাটিয়ে উঠতেছে। আজকে যদি আপনি পরিসংখ্যান দেখেন যারা বিসিএস পরীক্ষা দিচ্ছে, বিভিন্ন ব্যাংকে পরীক্ষা দিচ্ছে, চাকরি পাচ্ছে এরা কারা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা যদি এসব জায়গায় চাকরি না পেত, তাহলে রাস্তায় তারা মিছিল করত। আমরা তাদেরকে ভাল গাইডেন্স করছি, বিধায় তারা ভাল সুযোগ পায়। বিভিন্ন সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করছেন।

কাজেই আমাদের যারা শিক্ষার্থী আমাদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে যেভাবে গড়ে তুলতে চাই তথ্য প্রুযুক্তি নির্ভর আধুনিক মান-সম্মত একটি বিশ্ববিদ্যালয়। এবং ক্লাশ রুম, ফাইবার ডিজিটাল করতে পারি। আমরা যদি অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করতে পারি। সেশনজট যদি আর না থাকে। আরও যদি পর্যাপ্ত বইয়ের ব্যবস্থা করতে পারি। তাহলে তাদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কেটে যাবে। সেটি কি আর তাদের মধ্যে থাকবে? বরং আরও আশাবাদী হয়ে উঠছে।

একটা সময় তো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে সবাই হতাশ হয়ে উঠছিল। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক সকলেই বলত, এটা দিয়ে কিছু হবে না। কিন্তু এখন সবাই প্রশংসা করছে বিশেষ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রী সকলেই।

সবাই বলছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় একটা নতুন রূপ দিয়েছে। এর অর্থ হলো- এটার পরিবর্তন করা যায়, উন্নয়ন ঘটানো যায়। শিক্ষার্থীরা যদি দেখে সেশনজট নেই, ক্লাশ হচ্ছে নিয়মিত হচ্ছে। তাহলে তারা এটা থেকে মুক্ত হয়ে আশাবাদী হয়ে আলোকিত গ্রাজুয়েট হয়ে থাকবে। সে আশাবাদী গ্রাজুয়েট তৈরি করার জন্য যারা হবে আত্মপ্রত্যয়ী ও আত্মবিশ্বাসী। যারা আমাদের জাতির উন্নয়নে সাহায্য করবে। সে উদ্দেশ্যেই আমরা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আমরা ঢেলে সাজাচ্ছি। এবং গড়ে তোলার জন্য কাজ করছি।

সাফল্য খণ্ডিত নয়
আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সেশনজট নিরসন। আর সেটির ক্ষেত্রে আমরা বহুদূর এগিয়েছি। আর সাফল্য খণ্ডিতভাবে দেখার নেই। তবে সামগ্রিক যে কর্মকাণ্ড জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে আমরা সামনে এগিয়েছি, তার প্রত্যেকটাই গুরুত্বপূর্ণ। এবং প্রত্যেকটার ভেতরেই সাফল্য রয়েছে। কাজেই একটি রেখে আরেকটিকে বিচ্ছিন্ন করে বলা খুব কষ্টকর। তার মানে সার্বিকভাবে যদি বলি তাহলে সন্তুষ্টি আছে। প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই কম-বেশি অগ্রগতি আমাদের রয়েছে। সর্ব মহলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে একটা আশাবাদ যে সৃষ্টি হয়েছে। এটাই বড় সাফল্য।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই বদলাবে বাংলাদেশের ভাগ্য: ড. হারুন-অর-রশিদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই বদলাবে বাংলাদেশের ভাগ্য: ড. হারুন-অর-রশিদ Reviewed by Unknown on 12:41:00 PM Rating: 5

No comments: